দ্বীন ইসলাম প্রচারের নামে ১৯২৬ ইং সালে ভারতের “মেওয়াত” নামক শহর থেকে এই সংগঠনটি নিজের কার্যক্রম শুরু করে। এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত করেছে "মাওলানা ইলীয়াস" নামক ব্যক্তি যাহাকে তাবলীগ জামাতের লোকেরা "হযরত জি!" বলে ডাকে। সে ভারতের "মেওয়াত" শহরের অধিবাসি ছিল। ১৮৮৫ ইং সালে তার জন্ম গ্রহন হয়ে এবং ভারতের "দেওবন্দ মাদ্রাসা" থেকে শিক্ষা লাভ করে। পরিশেষে ১৯৪১ ইং সালে মারা যায়। (সুত্রঃ Wikipedia)
তাবলীগি জামাতের পর্দা ফাস!!!
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় লোকের এই ভুল ধারনা রয়েছে যে তাবলীগি জামাত একটি "সুন্নি" আদর্শের অনুসারী। কিন্তু সত্য কিছুটা ভিন্য। এই জামাত মূলত "ওয়াহাবী" সংগঠন।
প্রিয় নবী নুর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শিখানো ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ যা বুখারী ও মুসলীম শরফে বর্ণিত, যথা, ১) কলেমা, ২) নামায, ৩) রোজা, ৪) জাকাত ও ৫) হজ্ব, সমূহকে বাদ দিয়ে তারা নতুন করে ইসলামের “ছয়টি উসুল” তৈরী করেছে। তাদের তৈরী “ছয়টি উসুল” যথাঃ ১) কলেমা, ২) নামাজ, ৩) ইলম ও জিক্র, ৪) ইকরামুল মুসলেমীন, ৫) ইখলাসে নিয়্যাত ও ৬) দাওয়াত-ও-তাবলীগ, সমূহ তারা মেনে চলে।
উক্ত সংগঠনের প্রকাশ্য কাজ গুল হচ্ছে মুসলমানদেরকে নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম শিক্ষা দেয়া, রোজা, যিকর ও তাবলীগ করার জন্য বার বার অনুরোধ করা এবং দৈনিক জীবন ও কার্যালাপ সমূহকে সুন্নাত অনুযায়ী অতিবাহিত করার জন্য সর্বদা উৎসাহিত প্রদান করা।
তাবলীগ করার উদ্দেশ্যে এই সংগঠনের কর্মিরা সাধারন মুসলমানদেরকে ইসলামে তাবলীগের গুরুত্ব বুঝিয়ে নিজের সঙ্গে মসজিদে মসজিদে নিয়ে যায়। একটি মসজিদে তিন দিন করে কাটানোর পর আবার অন্য এলাকার আরএক মসজিদে গিয়ে অবস্থান নেয়। তাদের এই যাত্রাকে তারা ‘জামাত’ বলে থাকে। তারা তাবলীগে যাওয়াকে খুবই গুরুত্ব ও অদ্বিতীয় কাজ মনে করে। কারন প্রিয় নবীয়ে করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন …………।। উক্ত হাদীস শরীফ স্পষ্ট রূপে আমাদের জানাচ্ছে যে আমরা প্রিয় নবীর যেই হাদীস সমূহ জানি তা অন্যের প্রতি পৌছিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এই হাদীস শরীফে কোথাও এই নির্দেশ দেয়া হইনি যে জামাতে গিয়েই প্রিয় নবীর বানীকে পৌছাতে (বিস্তারিত পর্বর্তিতে দেখুন)। যাইহোক এই হাদীস শরীফকেই ব্যবহার করে তারা জনসাধারনকে তাবলীগে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত প্রদান করে।
কিন্তু মুসলমানদের মাঝেই কেন তাবলীগি জামাতের এই তাবলীগ সিমাব্ধ রয়ে আছে? তারা কাফিরদের কাছে কেন তাবলীগ করেনা? যদি কোন অমুসলিম ইসলামকে পূর্নরুপে পর্যাবেক্ষন করে নিজ ইচ্ছায় তা গ্রহন করতে চায় এবং তাবলীগ জামাতের নিকট এই পবিত্র ইচ্ছাকে প্রকাশ করে তখনই তাবলীগি কর্মিরা তাকে নিজ দলে নিয়ে তাবলীগের সদস্য বানিয়ে নেয়। পৃথিবীর যেখানে মুসলমান রয়েছে সেখানেই তারা তাবলীগ করে। “তাবলীগ” অর্থ ইসলাম প্রচার, এবার ভেবে দেখুন মুসলমানদের মাঝেই কেন “তাবলীগ” অর্থৎ ইসলামের প্রচার করা হচ্ছে? বাংলাদেশের যেই সব এলাকায় অমুসলিম রয়েছে সেখানে না গিয়ে কেন মুসলমানদের এলাকাতেই তাদের জামাত আসে। হিন্দু, খৃষ্ঠানদের ছেড়ে কেন মুসলমানদের ঘরে ঘরে তাবলীগ করা হচ্ছে। ঢাকাত মসজিদের শহর, ঢাকার কাকরাইলে তাবলীগিদের বিরাট মসজিদ না তৈরী করে পঞ্চগড় ও রাঙ্গামাটীতে কেন তৈরী হয়নি অথচ সেখানে অমুসলিমদের সংখ্যা খুব বেশী। সেখানেই মূলত একটি মসজিদের ও তাবলীগ করার প্রয়োজন ছিল। অবুঝ তাবলীগি পন্থিরা মনে করে যে ইহা মুসলমানদের সংষধনের জন্যই করা হয়। কিন্তু, আসলে কি এটাই মূল উদ্দেশ্য? তাবলীগি জামাতের প্রতিষ্ঠাতা ‘মাওলানা ইলীয়াস’ এর বক্তব্যকে লক্ষ করুনঃ
"মাওলানা ইলীয়াস" বলেছে,
“যারা তাবলীগ করেনা এবং তাবলীগ করতে সাহায্যও করেনা তারা মুসলমান নয়”
(বইয়ের নাম- মালফুযাতে ইলিয়াস, মালফুয নং-৪২)
সুতুরাং তাবলীগ জামাতের কর্মিরা নিজ গুরুর কথা অনুযায়ী মনে করে যে তারা ব্যতিত এবং তাদের সাহায্যকারী ব্যতিত আর কেউই মুসলমান নয়। তাই তারা মুসলমানদের মাঝে ইসলামের তাবলীগ করে ও মুসলমানদের আবার করে কলেমা পড়িয়ে মুসলমান বানায়। তাই তাদের ছয়টি নিতির প্রথমত নিতি হচ্ছে ‘কলেমা’।
জনসাধারন সহ অজ্ঞ তাবলীগি কর্মিরাও মনে করে যে “তাবলীগি জামাত” নামাজ রোজা প্রচারের প্রতিষ্ঠান এবং তা ভেবেই তারা এই জামাতে যোগ দেয় কিন্তু, আসলে কী তাবলীগি জামাত নামাজ ও রোজা প্রচারের জন্যেই কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? এবার তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতার অবাক করে দেয়ার মত বক্তব্যকে লক্ষ করুনঃ
"তাবলীগি জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলীয়াস নিজের এক শিষ্য ‘জহিরুল হাসান’কে তার আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছে যে,
“জহিরুল হাসান! আমার গোপন রহস্য কেউ জানেনা, লোকজন মনে করছে এটা (যথা তাবলীগি জামাত) নামাজের সংগঠন, আমি কসম খেয়ে বলছি এটা কোন নামাজের সংগঠন নয়। আমার উদ্দেশ্য হলো একটি নতুন কওম (দল) সৃষ্টি করা। (বইয়ের নাম- দ্বীনি দাওয়াত, পৃষ্টা-২৩৪)
উক্ত বক্তব্য পড়ে অনেকেই, যারা তাবলীগি জামাতকে জানপ্রান দিয়ে ভালবাসে, অবশ্যই চমকিয়ে উঠবে কিন্তু তা কোন মুখ্য বিষয় নয় কারন যারা পর্যবেক্ষন ছাড়াই সবকিছু গ্রহন করে নেয় তাদের জন্য সত্যের মুখোমুখি হয়ে চমকিয়ে উঠাটাই সাভাবিক।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মাওলানা ইলীয়াসকে নতুন দল সৃষ্টির জন্য কে নির্দেশ দিয়েছিল। কার হুকুম ও সাহায্যে সে এই সংগঠনের বিস্তার ঘটাতে সম্ভব হয়েছে। বহু বই পুস্তক যাছাই বাছাই করেও তা এখনও জানা যাইনি, কিন্তু এ ব্যপারের সাথে সর্ম্পিত বেশ কিছু তথ্য উদ্ধার হয়েছে বটে, যা দ্বারা বেশ কুছি ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
নিম্নের বক্তব্যকে লক্ষ করুনঃ
“মাওলানা ইলিয়াস” নিজের পীর ‘মৌলভী রশীদ আহমেদ গাংগুহী’ এর মাধ্যমে বৃটিশ সরকার থেকে মাষিক ভাতা পেত”
(১। বইয়ের নাম-মোকালাতুস সদরাইন, পৃষ্ঠা-৮, লেখক- মৌলভী শিব্বির আহমদ দেওবন্দী, দেওবন্দ হতে প্রকাশিত এবং
২। বইয়ের নাম- দেওবন্দী মাযহাব, লেখক- প্রক্ষাত ঐতিহাসিক, জনাব গোলাম মেহের আলী)